অাজ বাংলা ভাষা দিবস। এই দিনটাকে মনে রেখে অামাদের প্রয়াস। অসাধারণ লেখাটি লিখেছে বিশিষ্ট লেখিকা কাজরী বসু।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক,জব্বার,শফিউল,সালাম,বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
একুশের আন্দোলনটা সত্যি বলতে বাংলাদেশকেই মানায়।ওরা ভাষার জন্য জীবন দিতে পারে।আর আমরা জীবনের জন্য ভাষা বিসর্জন দিতে পারি। একুশ একুশ বলে এ বঙ্গীয়রা লাফালে তা যেন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া মনে হয়।প্রাণের স্বতঃস্ফূর্ততা নেই তাতে।
এ কথা ঠিকই, আমাদের বাংলাকে জীবনচর্চার অঙ্গীভূত করার অনেক অসুবিধা, দেশটা বহুভাষার। কিন্তু তার মধ্যেও আমরা বাংলাকে মন থেকে ভালোবাসি কজন? যারা হিন্দি বলয় থেকে আসেন,তাঁরা কিন্তু বাংলা চট করে শিখে নেন।অথচ আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলি ভুলভাল হিন্দিতে। সে হয়ত বলল,আরে কেমন আছেন মাইজি,আমি বলে উঠলাম,আরে বহুত আচ্ছা, তুম ক্যায়সা হ্যায়? কোথাও দরকার না থাকলেও আমরা হিন্দি বলবই বলব। বাসে উঠে একটু সরুন বললে সবাই কিন্তু বুঝবে,কিন্তু তাতে আমার কি,আমি বলে উঠলাম আপ থোড়া সা সর সকতে হো?এমনও দেখি,কোনো হিন্দিভাষী ব্যক্তি বাংলায় কথা বলছেন,আর একজন বাঙালি সমানে হিন্দিতে উত্তর দিয়ে যাচ্ছেন। আর ইংরেজির তো কথাই নেই। বলতে পারি আর না পারি আমি অচেনা লোকজনের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলবই, নইলে আমায় যদি এলিট ক্লাস না ভাবে!
অনেক শব্দ আছে, যার বাংলা এখনো নেই,বিশেষ করে টেকনোলজি বিষয়ক কিছু শব্দ,যেমন কম্পিউটার কি বোর্ড ডাউনলোড আপলোড ইত্যাদি। কিন্তু সেগুলো বাদ দিলে অনেক শব্দ যা বাংলায় বলা যেতেই পারে,আমরা ইংরেজিতে বলাই অভ্যেস করে ফেলেছি।
রান্নাঘর পর্যন্ত আমাদের কাছে এখন কিচেন,থালা হল প্লেট।ঘরে যাচ্ছি না বলে বলি রুমে যাচ্ছি। মন্তব্যে awesome splendid super ইত্যাদি ছাড়া লিখিনা।ফোনে এখনো অভ্র ইনস্টল করা নেই এমন বাঙালি প্রচুর।
না,ঠিক আছে,আমি বাংলা খাব না বিদেশি খাব তা অন্যে বলার কে! কিন্তু এই খিচুড়ি তত্ত্বে বিশ্বাসী হবো আর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই বাংলা বাংলা করে কাঁদুনি গাইব,এটা একদমই মানা যায়না।
সত্যি বলতে বাংলাদেশের বাঙালিরা বাংলা ইংরেজি দুটোই ভালো বলেন কিন্তু।আমাদের মতো আধাখ্যাঁচড়া খিচুড়ি ভাষায় কথা বলেন না তাঁরা।একুশের ভাষা আন্দোলনটা তাঁদেরই মানায়।এতে কেউ রাগ করুন,সত্যিটা সত্যিই।

©কাজরী বসু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *